শনিবার, ৫ই এপ্রিল ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

শনিবার, ৫ই এপ্রিল ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ শনিবার, ৫ই এপ্রিল ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৬ই শাওয়াল ১৪৪৬ হিজরি

মধ্যবিত্ত এবং সাংবাদিক মহলের নীরব কান্না কেউ দেখেনা

বিশ্বের সকল দেশের মত বাংলাদেশেও মহামারী করোনা ‘কোভিড -১৯’ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন এবং গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ এবং দেশের সাংবাদিক মহল। এতে করে সবার আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে , গৃহবন্দী হয়ে পড়া মধ্যবিত্ত মানুষগুলো। সাংবাদিকেরা সংবাদ সংগ্রহে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘুরছে এখান থেকে ওখানে। আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ হলেও কিন্তু বন্ধ হয়নি তাদের ব্যয়ের পথ। নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর হাতে খাবার, বিভিন্ন উপহার সামগ্রী, নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি তুলে দিচ্ছেন সরকার এবং উচ্চবিত্তসহ আরো বিভিন্ন সংগঠনগুলো।

তবে মধ্যবিত্ত শ্রেনীর সাংবাদিক ও আন্যান্য পরিবারগুলোর পাশে কেউ নেই। উচ্চ বিত্তদের টাকার অভাব নেই ফলে তাদের খাবারের অভাবও নেই, তাই তাদের কোন প্রকার দুঃশ্চিন্তাও নেই। মধ্যবিত্তদের নেই ব্যাংক ব্যালেন্স বা জমানো অর্থ,সাহায্য-সহোযোগিতার হাত বাড়াচ্ছেন না কেউ। ঘরে খাবার না থাকলেও মধ্যবিত্তরা লজ্জায় কিছু বলতে পারছেনা, লজ্জায় মুখ থুবড়ে পড়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, কিছু টাকা জমানো ছিলো তাও শেষ হবার পথে অপরদিকে রমজান মাসের শুরু। অন্যসব মাসের তুলনায় রমজান মাসে সংসারের খরচটা একটু বেশী। এভাবে চলতে থাকলে করোনায় নয়, না খেয়েই মরতে হবে আমাদের। কারন লাজ- লজ্জায় আমরা কারো নিকট সাহায্য চাইতে পারছিনা আবার কেউ সাহায্যের হাত ও বাড়িয়ে দিচ্ছেনা।

মধ্যবিত্তদের কাছে পেটের ক্ষুধার চেয়ে নিজেদের আত্মসম্মানটাই বড়। এরা না পারে ভিক্ষা করে খেতে আর না পারে অন্যের হক মেরে খেতে কিংবা কারো কাছে চেয়ে খেতে। ন্যায়-নীতি, সততা, আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচা এই মধ্যবিত্তরা আজকে মোটেও ভালো নেই। এদের এখন মাথায় হাত। না পারছে বলতে, না পারছে সইতে। এমন অবস্থায় কি করবে, কি করা উচিত হবে ভেবে উঠতে পারছেন না এরা।

মাস শেষে এমনিতেই মধ্যবিত্তদের হাতে টাকা পয়সা থাকে না আর লক ডাউনের এই সময়ে আরো বাজে পরিস্থিতিতে আছে তারা। কিছু দিন পরই তাদের ঘরের খাবার শেষ হয়ে যাবে হয়তোবা কারোর শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তাতে কি, তারা তো হাত পাতারও মানুষ না। আরো কিছু দিন ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচবে তবুও কারোর কাছে হাত পাতবেনা, কিন্তু তারপর? তারপর আর কি, আল্লাহ ভালো জানেন।

এই মধ্যবিত্তরা চাইলেও ১/২ মাস উপার্জন না করে চলতে পারবেনা। আবার নিন্মবিত্ত বা গরীবদের মত অন্যের কাছে হাতও পাততে জানেনা। পারেনা লাইনে দাড়িয়ে কিছু আনতে। এই শ্রেণীটার লজ্জাবোধ সবসময়ই বেশি। নৈতিক মূলবোধ, আদর্শ কিংবা সামাজিক কারনে সবসময়ই নিজেদের গুটিয়ে রাখে এরা।

প্রধানমন্ত্রী গরীব অসহায় এবং বড়লোক সহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্যও প্রণোদনা ঘোষনা করেছেন। এসব উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু মধ্যবিত্তরা? এখানেও তাদেরকে করা হয়েছে বঞ্চিত। তাই এদের মুখ থুবড়ে হাহাকার আর মৃত্যু ছাড়া কোন পথ নেই।

সাংবাদিক মহলের জন্য যেই একটা সুসংবাদ এসেছিল, প্রেস কাউন্সিল থেকে জেলা প্রশাসকদের নিকট সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল সেটাও আবার অদৃশ্য শক্তির কারণে স্থগিত করা হয়। এমতাবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর উচিত এই সাংবাদিকমহল এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য একটু সুনজর দেওয়া।

Facebook
Twitter
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email
Print