সোমবার, ২৭শে মে ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সোমবার, ২৭শে মে ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ সোমবার, ২৭শে মে ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলকদ ১৪৪৫ হিজরি

করোনা রোগের ডায়েট ফর্মুলা, প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়লে ভয় নেই !

প্রভাতী ডেস্ক: করোনা পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ভয় ও আতঙ্কে দিশেহারা মানুষ। এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি কোনো ওষুধও নেই বাজারে। তবে একটা রাস্তা অবশ্য খোলা রয়েছে।

সেটা হচ্ছে, ব্যক্তিগত সচেতনতা গড়ে তোলা ও প্রত্যেকের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্থাৎ ইমিউন সিস্টেম বাড়িয়ে তোলা। ইমিউন সিস্টেম উন্নত করা গেলে করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা নিশ্চিতভাবেই কমে আসবে।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের যে মারাত্মক লক্ষণ অর্থাৎ শ্বাসযন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের সংক্রমণ, এগুলো সহজে প্রতিরোধ করা সম্ভব। সহজভাবে বললে, যেকোনো ভাইরাস হচ্ছে প্রোটিনযুক্ত অণুজীব, যার কারণে মানুষ জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট এমনকি মারাত্মক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়।

এ ভাইরাস ভয়ংকর প্রাণঘাতী রোগও তৈরি করতে পারে খুব সহজে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বেশি পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে প্রতিদিন। সেইসঙ্গে নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম করুন ও মানসিক চাপ কমিয়েও ইমিউন সিস্টেম বাড়ানো যায়।

পুষ্টি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবারঃ
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হচ্ছে কিছু ভিটামিন, মিনারেল ও এনজাইম। যা শরীরের ক্ষতিকর জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে, শরীরের কোষগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচিয়ে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

প্রধান অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলো হল বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, সি, ই, লাইকোপেন, লুটেইন সেলেনিয়াম ইত্যাদি। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবারের একটি ডায়েট ফর্মুলা অনুসরণ করা যেতে পারে। ফর্মূলাটি নিন্মে দেওয়া হলো।

বিটা ক্যারোটিন : বিটা ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। শক্তিশালী ইমিউন সিস্টেম গড়তে এটা খুবই দরকারি। উজ্জ্বল রঙের ফল ও সবজিতে এটা পাওয়া যায়। যেমন গাজর, পালংশাক, আলু, আম, ডাল, ব্রকলি ইত্যাদি।

ভিটামিন এ : ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিহত করতে ভিটামিন এ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিটামিন এ পাওয়া যায় যেসব খাবারে- ডিম, কলিজা, দুধজাতীয় খাবার।

এছাড়া মিষ্টি আলু, সবুজ শাকসবজি, লাল মরিচ, গাজর, লাউ, ফুটি/খরমুজ, পেঁপে, আম, লেটুস, গুঁড়া লঙ্কা, এপ্রিকট ইত্যাদিতে ভিটামিন এ পাওয়া যায়।

ভিটামিন বি৬ : শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় জৈব রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন বি৬। চিকেন, স্যামন, টুনা, সবুজ শাকসবজি, চানা ডালে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি৬ রয়েছে।

ভিটামিন সি : যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো নয় এবং মাঝে মধ্যেই রোগে ভোগেন তারা নিয়মিত ভিটামিন সি খেলে কয়েক দিনের মধ্যেই পরিবর্তন বোঝা যায়। ভিটামিন সি ভরপুর এমন খাবারের তালিকায় রয়েছে- কমলালেবু, আঙুর, স্ট্রবেরি, বেলপেপার, পালংশাক, ব্রকলি, পাতিলেবু।

ভিটামিন ডি : ডিম, পনির, টোফু ও মাশরুম। সূর্যের আলো তথা রোদ থেকেও ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।

ভিটামিন ই: ভিটামিন ই শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা ভাইরাস সংক্রমণের সঙ্গে লড়াইয়ের ক্ষমতা বাড়ায়। আমন্ড, কাজু, আখরোট, কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, বাদাম তেল, বিচিজাতীয় ও ভেজিটেবল অয়েল, জলপাইয়ের আচার, সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি।

আমিষ : উচ্চমানের আমিষজাতীয় খাবার যেমন ডিম, মুরগির মাংস ইত্যাদি বেশি করে খেতে হবে।

প্রোবায়োটিকস : প্রোবায়োটিকস শ্বাসযন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্র সংক্রমণের ঝুঁকি প্রতিরোধ করে। টকদই ও দুধ থেকে প্রস্তুত খাবার এর আদর্শ উৎস। এছাড়া সব ধরনের শস্যদানা, কলা, পেঁয়াজ, রসুন, অ্যাসপারাগাস ও শিম।

শাকসবজি, ফল, বাদামজাতীয় খাবার শরীরে নিউটোভ্যাক্স ভ্যাকসিনের অ্যান্টিবডি প্রক্রিয়াকে উন্নত করে, যা স্টেপটোকোক্কাস নিউমোনিয়া প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

চা : গ্রিন-টি, লাল চায়ে এল-থেনিন এবং ইজিসিজি নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা আমাদের শরীরে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনেক যৌগ তৈরি করে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের খুব ভালো কাজ পেতে হলে খাবার রান্নার সময় অতিরিক্ত তাপে বা দীর্ঘ সময় রান্না না করে স্বল্প তাপমাত্রায় রান্না করতে হবে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email
Print