শনিবার, ১৩ই জুলাই ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শনিবার, ১৩ই জুলাই ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ শনিবার, ১৩ই জুলাই ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৬ই মহর্‌রম ১৪৪৬ হিজরি

কাল সেই বিশেষ সূর্য গ্রহণ !

প্রভাতী ডেস্ক: বছরের শেষ সূর্যগ্রহণ হতে যাচ্ছে বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) সকালে। গ্রহণের সময় সূর্যকে রক্তাক্ত আংটির মতো দেখাবে বলে বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ‘রিং অব ফায়ার’। সূর্যকে বড়জোড় ৩ মিনিট ৪০ সেকেন্ড এই অবস্থায় দেখা যাবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, চাঁদ সূর্যকে অ’তিক্রম করার সময় যখন ৯৭ শতাংশ ঢেকে ফেলবে, তখনই সূর্যকে রক্তিম আংটির মতো দেখা যাবে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, আকাশ পরিষ্কার থাকলে কাল সকালে বাংলাদেশ থেকে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ আংশিক দেখা যাবে। সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে এটি শুরু হবে। তবে কেন্দ্রীয় গ্রহণ শুরু হবে ৯টা ৩৬ মিনিটে। এসময় চাঁদ সূর্যের সামনে এসে ধীরে ধীরে ঢেকে ফেলবে।

এই আংশিক সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করতে ক্যাম্পের আয়োজন করেছে আগারগাঁওয়ের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে জাদুঘরের ছাদে দুইটি করোনাডো সোলার টেলিস্কোপ দিয়ে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখার ব্যবস্থা থাকবে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্রীয় গতিপথ আরব সাগরের ওমানের মাদ্রাকাহের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে গ্রহণ শুরু হবে। সম্পন্ন হবে ২টা ৫ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে, কেন্দ্রীয় গতিপথ ফিলিপিন্স সাগরে গুয়াম দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে।

বাংলাদেশ ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য, ভারত, শ্রীলংকা, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ায় সূর্যকে ‘রিং অব ফায়ার’ অবস্থায় দেখা যাবে।

চাঁদ যখন পরিভ্রমণরত অবস্থায় কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীর কোনো দর্শকের কাছে সূর্য কিছু সময়ের জন্য আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায়। এই ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বলা হয়। অমাবশ্যার পরে নতুন চাঁদ উঠার সময় এ ঘটনা ঘটে।

পৃথিবীতে প্রতি বছর অন্তত ২-৫টি সূর্যগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে কমপক্ষে দুটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হয়।

সূর্য গ্রহণের সময় খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকালে এক্লিপস ব্লাইন্ডনেস বা সোলার রেটিনোপ্যাথি হতে পারে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি রেটিনার কোষ ধ্বংস করে দিতে পারে, কর্নিয়া পুড়িয়ে দিতে পারে। তাই খালি চোখে সূর্যগ্রহণ দেখলে চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। প্রসঙ্গত, সূর্য যখন পুরোপুরি ঢাকা থাকে (পূর্ণগ্রহণ), তার চেয়ে যখন আংশিক ঢাকা থাকে অর্থাৎ আংশিক সূর্যগ্রহণকালে সূর্যের দিকে তাকালে চোখের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী বিশেষ চশমা চোখে দিয়ে সূর্যগ্রহণ দেখা যেতে পারে। ছবি তুলতে হলেও ক্যামেরায় সোলার ফিল্টার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা, অন্যথায় ক্যামেরার ক্ষতি হতে পারে।

বাংলাদেশে কখন:
বাংলাদেশে সূর্যগ্রহণের একটি বিবরণ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবদুর রহমান জানান, ঢাকায় সকাল ৯টা ৪মিনিট ৪৮ সেকেন্ড সূর্যগ্রহণ শুরু হয়ে সম্পন্ন হবে ১২টা ৬ মিনিট ৪২ সেকেন্ড। আর কেন্দ্রীয় গ্রহণ সময় ১০টা ২৯ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে। ময়সনসিংহে ৯টা ৬ মিনিটে শুরু হয়ে সম্পন্ন হবে ১২টা ৮ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে। কেন্দ্রীয় গ্রহণ সময় ১০টা ৩১ মিনিটে। চট্টগ্রামে ৮টা ৫৫ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে শুরু হয়ে সম্পন্ন হবে ১১টা ৫৮ মিনিটে। কেন্দ্রীয় গ্রহণ সময় ১০টা ২০ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে। সিলেটে শুরু হবে ৯টা ৩৬ সেকেন্ডে, সম্পন্ন হবে ১২টা ৩ মিনিটে। কেন্দ্রীয় গ্রহণ সময় ১০টা ২৫ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে। বরিশালে ৯টা ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড শুরু হয়ে সম্পন্ন হবে ১২টা ৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে। কেন্দ্রীয় গ্রহণ সময় ১০টা ২৭ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে। রাজশাহীতে ৯টা ১২ মিনিট ১২ সেকেন্ডে শুরু হয়ে সম্পন্ন হবে ১২টা ১৪ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে। কেন্দ্রীয় গ্রহণ সময় ১০টা ৩৭ মিনিট ১২ সেকেন্ডে। রংপুরে ৯টা ১২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে শুরু হয়ে সম্পন্ন হবে ১২টা ১৫ মিনিট ১২ সেকেন্ডে। কেন্দ্রীয় গ্রহণ সময় ১০টা ৩৭ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email
Print