বৃহস্পতিবার, ১৩ই জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

বৃহস্পতিবার, ১৩ই জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ বৃহস্পতিবার, ১৩ই জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৬ই জিলহজ ১৪৪৫ হিজরি

মাতারবাড়ীতে ভূমির ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন এবং প্রকল্পে কর্মসংস্থান নিয়ে এলাকাবাসীর চরম হতাশা

আশেক এলাহী, কক্সবাজার প্রতিনিধি: মাতারবাড়ী কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও স্থানীয় ও বহিরাগত কিছু দালালচক্র এবং বিদেশি কোম্পানিগুলো স্থানীয় শ্রমিকদের প্রতি অবহেলার কারনে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান দিন দিন কমে যাচ্ছে।

ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দেওয়া এবং বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী শতভাগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যে কতগুলো প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছেন তারমধ্যে মাতারবাড়ী কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প অন্যতম। প্রকল্পের শুরুতে জায়গা নির্ধারণে কিছু জটিলতা থাকলেও জননেত্রীর কথায় মাতারবাড়ী তথা দ্বিতীয় টুঙ্গিপাড়ার মানুষ নির্দ্বিধায় জায়গা দিয়ে দেয়।

 

তখন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ছিল ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকদেরকে জমির ন্যায্য মূল্যসহ তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এবং কর্মহারা মানুষদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের টাকা বেশিরভাগ মানুষই হাতে পায়নি। আর যারা পেয়েছে তার কিছু অংশ টাকা ভুমি অফিসের দালালরা হাতিয়ে নিয়েছে। ২০% হারে কমিশন অগ্রীম না দিলে ফাইল নড়ে না। বাস্তবতা হল ভুমি অফিসে দালাল বন্ধের জন্য প্রশাসনিকভাবে পদক্ষেপ নেয়া হলেও মূলত তার সুফল পায়নি সাধারণ জনগণ। কিছুদিন দালালদের দৌরাত্ম্য কমলেও বর্তমানে আগের চেয়ে তুলনামূলক বৃদ্ধি পেয়েছে। ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে একটি ‘কুচক্রী মহল’ প্রায় ২৩ কোটি টাকা লোপাট করেছে মর্মেও অভিযোগ রয়েছে।দালালদের কারণে সাধারণ জনগণ এখন দিশেহারা। উল্লেখযোগ্য হারে টাকা না দিলে মিলছেনা ক্ষতিপূরণের টাকা।

 

এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন এই হয়রানি বন্ধের প্রতিবাদে এলাকাসহ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব এবং ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনে একাধিকবার মানববন্ধন করলেও সমাধান মিলেনি কিছুরই। অথচ এলাকার সাধারণ মানুষের মাথায় হাত দিয়ে রাতারাতি অনেক দালাল আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে গেছে। ৮০ভাগ স্থানীয়দেরকে প্রকল্পে চাকরী দেওয়ার কথা থাকলেও এখন সেটা ২০ ভাগে চলে এসেছে। এমতাবস্থায় স্থানীয়দের দূরাবস্থায় তাদের পাশে থেকে তাদের জমির ক্ষতিপুরনের টাকা যাতে শতভাগ নিশ্চিত হয় এবং প্রকল্পে স্থানীয়দের চাকরির ব্যাপারে যে বাধাগুলো রয়েছে তার সমাধানসহ জমির মালিকদের পুনর্বাসনের বিষয়ে স্থানীয় প্রতিনিধিসহ সকল প্রকার নীতি নির্ধারকদের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সবিনয়ে অনুরোধ জানান সাধারণ জনগণ।

Facebook
Twitter
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email
Print