শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১৩ই শাবান ১৪৪৫ হিজরি

সকল প্রকার এনার্জি ড্রিংকস নিষিদ্ধ

প্রভাতী ডেস্ক: অবশেষে সকল প্রকার এনার্জি ড্রিংকসের আমদানি,বাজারজাত ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলো।এছাড়া কার্বোনেটেড বেভারেজের আমদানিতে বিএসটিআইয়ের মান অনুসরণ করতে হবে।

৪অক্টোবর বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) দেশের সব কাস্টম হাউসকে চিঠি দিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। সিদ্ধান্তটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, বিএসটিআই ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকেও অবগত করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিএসটিআই নির্ধারিত এবং মানবহির্ভূত কোনো কার্বোনেটেড বেভারেজ বিশেষত যেসব কার্বোনেটেড বেভারেজে ক্যাফেইনের মাত্রা ১৪৫ মি.গ্রা/লি.-এর বেশি সেগুলো আমদানি,বাজারজাত ও বিক্রি করা যাবে না। এ ছাড়া কার্বোনেটেড বেভারেজের মোড়কে এনার্জি ড্রিংকস ঘোষণা দেওয়া বিভ্রান্তিকর হওয়ায় লেবেলে এনার্জি ড্রিংকস মুদ্রিত সব কার্বোনেটেড বেভারেজ আমদানি বন্ধ করার ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এ নির্দেশনার ফলে এখন থেকে কোনো ধরনের এনার্জি ড্রিংকস দেশে প্রবেশ করতে পারবে না। কোনো কার্বোনেটেড বেভারেজ আমদানি করতে হলেও সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া দেশে প্রবেশ করতে পারবে না। এতে করে কার্বোনেটেড বেভারেজের ক্ষেত্রে মানহীন ক্ষতিকর পণ্য দেশে বিক্রি বন্ধ হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (অতিরিক্ত সচিব) মো. মাহবুব কবির বলেন, নির্দেশনা প্রয়োজনীয় সব জায়গায় চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, এর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে একটি বড় কাজ হবে। আর কেউ এনার্জি ড্রিংকস মিথ্যা ঘোষণায় আনতে পারবে না। সবই পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেশে ঢুকবে। কেউ কার্বোনেটেড বেভারেজের ঘোষণা দিয়ে এনার্জি ড্রিংকস আনতে চাইলে ধরা পড়ে যাবে।

চিঠির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কার্বোনেটেড বেভারেজেস/ ড্রিংকসের লেবেলে বা মোড়কে এনার্জি ড্রিংকস ঘোষণা থাকা বা ক্যাফেইনের মাত্রা ১৪৫ মি.গ্রা/লি.-এর অধিক এমন কার্বোনেটেড বেভারেজ ড্রিংকস আমদানি এবং বন্দর থেকে খালাস বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হলো।

জানা গেছে, বাংলাদেশে এনার্জি ড্রিংকস নামে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আমদানি হয় রেড বুল, যা বছরে প্রায় ৮০-৯০ হাজার মেট্রিক টন। এই এনার্জি ড্রিংকসের মোড়কে ঘোষণা দেওয়া আছে প্রতি লিটারে ৩২০ মি.গ্রা/লি. ক্যাফেইন রয়েছে এবং এটি একটি উচ্চ ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়। এখন এই রেড বুল আমদানি নিষিদ্ধ হয়ে গেল। তবে যেসব আমদানি করা এনার্জি ড্রিংকস বাজারে রয়ে গেছে সেগুলোর বিক্রির ওপর এখনো কোনো নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেনি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি এনার্জি ড্রিংকসের জাতীয় মান ঘোষণা করা হবে না বলে বিএসটিআইয়ের একটি শাখা কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যদিও এর আগে থেকেই দেশী কোম্পানিগুলো কার্বোনেটেড বেভারেজের নামে এনার্জি ড্রিংকস উৎপাদন করে বাজারজাত করে আসছিল। বিএসটিআইয়ের ওই ঘোষণার পর এখন তারা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কারণ এনার্জি ড্রিংকসে মূলত ক্যাফেইন থাকে বেশি মাত্রায়। কিন্তু কার্বোনেটেড বেভারেজে এই মাত্রার সীমা দেওয়া হয়েছে ১৪৫ মি.গ্রা/লি.। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ দেশে এসব এনার্জি ড্রিংকস পরীক্ষা করে ক্যাফেইনের মাত্রা পেয়েছে ৩২০-এর কাছাকাছি। আবার কোনো কোনো নন-ব্র্যান্ডেড এনার্জি ড্রিংকস বাজারে বিক্রি হচ্ছে যেগুলোতে পাওয়া গেছে ভায়াগ্রার উপাদান এবং অ্যালকোহলের উপস্থিতি, যা পুরোপুরি আইনের লঙ্ঘন বলে মনে করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এদিকে দেশি যেসব প্রতিষ্ঠান কার্বোনেটেড বেভারেজের লাইসেন্স নিয়ে এনার্জি ড্রিংকস উৎপাদন ও বাজারজাত করছে সেগুলো বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর প্রক্রিয়াটা হবে একটু ভিন্ন। বাজার থেকে নতুন করে নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করা হবে। কেউ বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড মানছে না এমন তথ্য মিললে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগের বেশ কিছু পরীক্ষায় দেশি এনার্জি ড্রিংকসে ক্যাফেইনের মাত্রা বেশি পাওয়া গেছে। সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসার একটা অন্তর্বর্তীকালীন সময় থাকছে কম্পানিগুলোর হাতে। পরবর্তী সময়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের ড্রিংকসে ক্যাফেইনের অতিরিক্ত মাত্রা প্রমাণিত হলে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া কোনো কোম্পানী/ মাধ্যম যদি বিজ্ঞাপনে এনার্জি ড্রিংকসের প্রচার চালায় তবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email
Print