রবিবার, ১৬ই জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

রবিবার, ১৬ই জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ রবিবার, ১৬ই জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৯ই জিলহজ ১৪৪৫ হিজরি

মেয়েদের সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে নিজেকে সৎ পুলিশ অফিসার দাবী করে টাকা চাইতো

ওসি মহসিন সেজে ৭৭১ নারীর সঙ্গে চ্যাট ৫ম শ্রেণি পাস আনোয়ারের

স্থানীয় একটি প্রিন্টিং প্রেসে কাজ করেন এই প্রতারক

জনপ্রতিনিধি, চিত্রনায়ক, সরকারি চাকরিজীবীদের নাম-ছবি ব্যবহার করে খোলা ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতারণা চালাতেন আনোয়ার হোসেন (৩০)। তার প্রতারণার প্রধান টার্গেট ছিল নারীরা। শুধুমাত্র ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীনের নামে খোলা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে চ্যাট করেছেন ৭৭১ নারীর সঙ্গে।

প্রতারণার তথ্য জানতে পেরে তেজগাঁও মডেল থানায় মামলা করেন ওসি মহসীন। পরে আনোয়ারের অবস্থান শনাক্ত করে শুক্রবার(২৬ জানুয়ারি) গাইবান্ধা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে তেজগাঁও মডেল থানা-পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া আনোয়ার গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাসিন্দা। স্থানীয় একটি প্রিন্টিং প্রেসে কাজ করেন তিনি। মাত্র পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করলেও দক্ষতার কারণে এলাকায় ‘ফেসবুক মাস্টার’ নামে আনোয়ার।

শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তেজগাঁও মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন।

ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘গত সেপ্টেম্বরে আমার নাম-ছবি ব্যবহৃত একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আমার নজরে আসে। আমি নিজে যেসব পোস্ট করতাম, সেই অ্যাকাউন্টেও কপি করে একই পোস্ট করা হতো। পরে আমি এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি।’

ওসি বলেন, সম্প্রতি কিছু নারী আমার সরকারি নম্বরে ফোন করে জানায়, আমি সারা রাত চ্যাটিং করি কিন্তু দিনে কেন কথা বলি না? এক নারী একদিন অফিসে চলে আসে। বিব্রতকর পরিস্থিতির বিষয়টি টের পেয়ে সিনিয়র স্যারদের পরামর্শক্রমে আমি আইনি ব্যবস্থা নিই। তারপর প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক আনোয়ারকে শনাক্ত করে গাইবান্ধা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, শুধুমাত্র ওসি মহসীন পরিচয়ে ৭৭১ নারীর সঙ্গে চ্যাটিং করেছে আনোয়ার। বিষয়টি আমার ইউনিফর্মের জন্য এবং আমি ব্যক্তির জন্য মানহানিকর। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, অনেককে সে আর্থিক সহযোগিতার জন্য টেক্সট করেছে। নারীদের টার্গেট করে প্রথমে কথা বলেছে, তারপর বাজে উদ্দেশ্যে নানা ধরনের আপত্তিকর কথাও বলেছে। একটা ঘটনা দেখেছি এক নারীকে চ্যাটের একপর্যায়ে বলেছে টাকার দরকার। তখন ওই নারী রিপ্লাই দিয়েছে ওসিদের কি টাকার অভাব নাকি? তারপর ওই প্রতারক আবার বলেছে, ওসি মহসীন সৎ অফিসার।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) লিটন কুমার সাহা বলেন, বর্তমানে সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে প্রতারণা প্রতিনিয়ত ঘটছে। এসব প্রতিরোধে ডিএমপির প্রতিটি ইউনিট প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আনোয়ার সারাদেশে ব্যাপকভাবে নেটওয়ার্কিং করে প্রতারণা করেছে। ওসি মহসীনসহ বিভিন্ন সেলিব্রেটি, জনপ্রতিনিধিদের ছবি-নাম ব্যবহার করে হুবহু ফেসবুক আইডি খুলে প্রতারণা করে আসছিল সে। তার প্রধান টার্গেট ছিল মেয়েরা, কথাবার্তার একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি আদান-প্রদান করতো। আমরা তার কাছ থেকে পাওয়া ডিভাইসগুলো থেকে বিষয়গুলো আরও চেক করব।

Facebook
Twitter
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email
Print