সোমবার, ২৭শে মে ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সোমবার, ২৭শে মে ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ সোমবার, ২৭শে মে ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলকদ ১৪৪৫ হিজরি

চট্টগ্রামের চকবাজারস্থ কথিত যুবলীগ নেতা টিনু অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের গডফাদার নূর মোস্তফা টিনুকে পিস্তলসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। রোববার(২২শে সেপ্টেম্বর) রাত দশটায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর শুলকবহর এলাকায় মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে  টিনুকে আটক করে র‍্যাব-৭। আটককালে তার কাছে একটি বিদেশী পিস্তল এবং ৫ রাউন্ড গুলিভর্তি একটি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়। এ সময় জসিম উদ্দিন নামে তার এক সহযোগীকেও আটক করা হয়। টিনু নিজেকে যুবলীগ নেতা দাবি করলেও তার কোন পদ পদবি নেই।

রাত সোয়া ১টায় র‌্যাব-৭ এর মেজর মেহেদী হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, সন্ত্রাসী টিনুকে অস্ত্রসহ তার বাসার সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বাসায় অস্ত্র আছে বলে খবর আছে। এজন্য বাসায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসের অভিযোগ রয়েছে। তার একটি কিশোর গ্যাংও রয়েছে।

জানা গেছে, আটকের পর টিনুকে নিয়ে অস্ত্র ভান্ডারের সন্ধানে নামে র‍্যাব-৭ এর বিশাল টিম। রাত ১২টার পর থেকে টিমটি নগরীর চকবাজার, বাদুরতলা, কাপোসগোলা এলাকায় অভিযান চালায়। পরে আটক কথিত যুবলীগ নেতা টিনুর দেয়া তথ্যে নগরীর বাদুরতলা এলাকায় তার নিজের ফ্ল্যাট বাসা থেকে একটি শর্টগান এবং ৬৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‍্যাব-৭ এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, সংবাদ সম্মেলন করে পরে বিস্তারিত জানানো হবে। আপাতত টিনুর দেয়া বাকি তথ্য যাচাই বাছাই করা হবে।

চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার এলাকার কয়েকটি কলেজ ও স্কুলের উঠতি সন্ত্রাসী ও কিশোর  শিক্ষার্থীদের নিয়ে সক্রিয় রয়েছে টিনু গ্রুপ। নগরের বাকলিয়া, বহদ্দারহাট, পাঁচলাইশ ও চকবাজার এলাকায় এ গ্রুপ বেশি সক্রিয়। চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িত গ্রুপের সদস্যরা। বিভিন্ন ছিনতাইয়ের ঘটনায়ও বিভিন্ন সময় টিনুর অনুসারীরা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে।

জানা যায় , নগরের চকবাজার, বাদুরতলা এলাকায় নূন্যতম ৫টি জুয়ার আসরের মালিক নুর মোস্তফা টিনু। এছাড়াও চকবাজার, বাদুরতলা, কাপাসগোলা এলাকার যুবক- কিশোরদের নিয়ে গ্যাং সংস্কৃতি নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে মাদক ব্যবসার পূর্ন নিয়ন্ত্রন তার হাতেই। নগরীর চকবাজার এলাকার কোচিং সেন্টার, ছোট বড় সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে একচেটিয়া চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রনও টিনুর হাতে। এমনকি ফুটপাতের হকারদের নিকট থেকেও দৈনিক চাঁদা আদায় করতো তার লোকজন। এছাড়াও বিভিন্ন সময় নগরীর ছিনতাইয়ের ঘটনায় আটককৃতদের দেওয়া তথ্য মতে টিনুর নেতৃত্বে নগরীতে সক্রিয় আছে ছিনতাইয়ের কাজে নিয়োজিত বিশাল একটি গ্রুপ। নগরীর টমটম, টেম্পুর লাইনের একাংশের নিয়ন্ত্রনসহ পরিবহন খাতেও টিনুর  রয়েছে বিশাল আধিপাত্য।

Facebook
Twitter
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email
Print