
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন প্রকাশ ছোট সাজ্জাদকে রাজশাহী কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। একইসাথে কারাগারে থাকা তার স্ত্রী তামান্না শারমীনকে ঢাকা বিশেষ (মহিলা) কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ রাজধানীর একটি শপিং মল থেকে গ্রেপ্তার হয় ছোট সাজ্জাদ। এরপর ডাবল মার্ডারসহ একের পর এক হত্যাকাণ্ডে নাম ওঠে আসে ছোট সাজ্জাদের। তার বাহিনীর রায়হান, ইমনসহ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীরা চট্টগ্রামে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও চাঁদাবাজি চালাচ্ছে। এ সংক্রান্ত একাধিক মামলা হলেও তার সহযোগিরা সবাই ধরাছোঁয়ার বাইরে। পরে ১০ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে নগরের বহদ্দারহাট বাড়ইপাড়া এলাকা থেকে সাজ্জাদের স্ত্রী তামান্নাকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে সাজ্জাদ ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বের হয়ে আবার অপরাধে জড়ায় এবং আগের চেয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এরপর ১৫ মার্চ ২০২৫ রাজধানীর একটি অভিজাত শপিং মল থেকে গ্রেপ্তার হয় এই সস্ত্রাসী। গ্রেপ্তারের পর তার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নেয় স্ত্রী তামান্না শারমিন। সাজ্জাদকে গ্রেপ্তারের প্রতিশোধ নিতে ২৯ মার্চ রাতে নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোডে জোড়া খুনসহ কমপক্ষে তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটায় সাজ্জাদের সহযোগীরা। আর হানিট্র্যাপে ফেলে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে আরেক সন্ত্রাসী ঢাকাইয়্যা আকবরকে।
সর্বশেষ গত ৫ নভেম্বর নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্ল্যাহ তার নির্বাচনী এলাকার বায়েজিদে গণসংযোগ চালানোর সময় সেখানে উপস্থিত থাকা আরেক সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলার পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যা করা হয়। তাতেও উঠে আসে সাজ্জাদের নাম। সেই ঘটনায় এরশাদ উল্লাহ আহত হয়ে এখনো চিকিৎসাধীন আছেন। এ ছাড়া রাউজানে কমপক্ষে সাতজন ছাত্রদল, যুবদল কর্মী হত্যায় সাজ্জাদ ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের মো. জামালের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন নগরীর বায়েজিদ, অক্সিজেন, চান্দগাঁও এলাকায় পরিচিত ‘ছোট সাজ্জাদ’ বা ‘বুড়ির নাতি’ হিসেবে। কারণ বায়েজিদ, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ এলাকায় আগে থেকেই আছে বিদেশে পলাতক আরেক শীর্ষ সস্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর সাম্রাজ্য। আন্ডার ওয়ার্ল্ডে একই নামে দুই সাজ্জাদ হওয়ায় একজন সাজ্জাদ আলী, আরেকজন ছোট সাজ্জাদ নামে পরিচিতি পায়। বুড়ির নাতি সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কে প্রকাশ্যে গুলি করে মাসুদ কায়সার ও মোহাম্মদ আনিসকে হত্যার অভিযোগ আছে। ২১ অক্টোবর প্রকাশ্যে চান্দগাঁও থানার অদূরপাড়া এলাকায় ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন তাহসীনকে গুলি করে হত্যা করে সাজ্জাদ। ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে অক্সিজেন মোড়ে পুলিশের ওপর গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।
বিভিন্ন সংস্থা ও পুলিশ জানিয়েছে তার ভাণ্ডারে আছে একে-৪৭সহ অত্যাধুনিক অস্ত্র।
সাজ্জাদ নিজে ব্যবহার করত আমেরিকায় তৈরি দামি পিস্তল। প্রায় ২৫ জন অনুসারী নিয়ে গঠন করেছে নিজের বাহিনী। তাদের এসব অস্ত্র পাহাড়ের সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো থেকে সংগ্রহ করেছে বলে জানান পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আর সেনাবাহিনীর সহযোগিতা ছাড়া এসব অস্ত্র উদ্ধার এক প্রকার অসম্ভব বলে জানায় পুলিশ।
হত্যা, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে দায়ের হওয়া দেড় ডজন মামলার আসামি সাজ্জাদকে ইতিমধ্যে ৩০ দিনের বেশি রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে পুলিশ। কিন্তু তার আলোচিত কোনো সহযোগী কিংবা অস্ত্রের ভাণ্ডারে হাত দিতে পারেনি পুলিশ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএমপির একজন উপ-কমিশনার জানান, সাজ্জাদের অস্ত্রের উৎস পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা। ছোট সাজ্জাদের বাহিনীতে রয়েছেন কমপক্ষে ২৫ জন সক্রিয় সদস্য, তারা অস্ত্রবাজিতে দক্ষ। চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি করে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের থেকে একে-৪৭সহ অত্যাধুনিক মরণাস্ত্র কিনেছে। এসব অস্ত্র গহীন পাহাড়ে রেখেছে। পুলিশের যে লজিস্টিক সাপোর্ট আছে তাতে পাহাড়ে অভিযান পরিচালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ।
এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি ‘সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় যৌথ অভিযান’ ছাড়া তার অস্ত্র ভাণ্ডারে হাত দেওয়া এই মুহূর্তে ঝুঁকিপূর্ণ।









