
জুলাই আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের ওপর শেখ হাসিনা সরকারের কঠোর দমন-পীড়ন ‘ভুল’ ছিল বলে স্বীকার করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, সরকারের কিছু পদক্ষেপ ভুল ছিল। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ১৪০০, তবে অন্তর্বর্তী সরকারের হিসাব অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ৮০০।
তিনি বলেন, যদি দেশ অস্থিতিশীল হয়, তাহলে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোই লাভবান হবে। তাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া উচিত নয়।
জয়ের দাবি, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। যদি কোনো দলকে বাদ দেওয়া হয়, তাহলে সেটা প্রহসনের নির্বাচন হবে, বলেন তিনি।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে জয় বলেন, নির্বাচন অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে। আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে, নইলে জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহল ফলাফল মানবে না।
জয় অভিযোগ করেন, আমার মা এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার প্রচেষ্টা চলছে। এটা ন্যায়বিচারের নামে রাজনৈতিক কারসাজি।
তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে প্রায় ৫০০ কর্মী নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৩১ জন জেল হেফাজতে মারা গেছেন। এছাড়া দলীয় কর্মীদের দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রাখা হচ্ছে, জামিনও দেওয়া হচ্ছে না।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে জয় বলেন, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায় এই সরকারের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
জয়ের মতে, যদি আওয়ামী লীগকে যথাযথ সময় ও সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে সেই নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না এবং আন্তর্জাতিক মহলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না।









