রবিবার, ১৬ই জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

রবিবার, ১৬ই জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ রবিবার, ১৬ই জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৯ই জিলহজ ১৪৪৫ হিজরি

দূর্দান্ত জয়ের মধ্য দিয়ে জিম্বাবুয়েকে টানা ৩বার হোয়াইট ওয়াশ করল টাইগাররা

ক্রীড়া ডেস্ক: সৌম্য এবং ইমরুলের সেঞ্চুরীতে দূর্দান্ত জয় পায় বাংলাদেশ। এইবারের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজসহ জিম্বাবুয়েকে হ্যাটট্রিক হোয়াইটওয়াশ করল টাইগাররা। ২০১৪ সালে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ও ২০১৫ সালে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের পর এবার তাদের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ করল মাশরাফি বাহিনী। টেস্টেও জিম্বাবুয়েকে সর্বশেষ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ।

শুক্রবার তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পায় ৭ উইকেটে। জিম্বাবুয়ের দেয়া ২৮৭ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েসের সেঞ্চুরির সুবাদে ৪৭ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ জিতে নেয় টাইগাররা। এর আগে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২৮ রানে ও দ্বিতীয় ম্যাচে ৭ উইকেটে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।

সৌম্য সরকার দলে সুযোগ পেয়েই আজ দুর্দান্ত একটি ইনিংস খেলেছেন। ৯২ বলে ১১৭ রান করে আউট হন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। এই রান করার জন্য তিনি ৯টি চার ও ৬টি ছক্কা হাঁকান। সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় পর সেঞ্চুরি দেখা পেলেন এই টাইগার ক্রিকেটার।
এর আগে ২০১৫ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন সৌম্য সরকার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই সিরিজে প্রথমে দলে ছিলেন না সৌম্য। কিন্তু প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করায় ও জাতীয় লিগে ভালো করায় সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে তাকে দলে ডাকেন নির্বাচকরা।

গত দুই ম্যাচে ভালো খেলা ইমরুল কায়েস আজ ১১৫ রান করে আউট হন। ওয়ানডেতে এটি তার চতুর্থ সেঞ্চুরি। এই সিরিজের প্রথম ম্যাচেও ইমরুল কায়েস সেঞ্চুরি করেছিলেন। ওই ম্যাচে ১৪৪ রান করেন তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচে ৯০ রান করে আউট হন কায়েস।

ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। কাইল জারভিসের বলে এলবিডব্লিউ হন লিটন দাস। এরপর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার ২২০ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। ৩০ তম ওভারে আউট হন সৌম্য।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে ওয়ানডেতে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ইমরুল-সৌম্যর এই জুটিই এখন রেকর্ড। এর আগে ওয়ানডে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের ২০৭ রানের জুটি সেরা ছিল। যেকোনো জুটিতে ইমরুল-সৌম্যর এই জুটি দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। প্রথম অবস্থানে আছে সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ২২৪ রানের জুটি।

সৌম্য সরকার ফিরে যাওয়ার পর ইমরুল কায়েস ও মুশফিকুর রহিম ৫৪ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। ইনিংসের ৪০তম তম ওভারে আউট হন ইমরুল কায়েস। এরপর মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিথুন দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে পাঁচ উইকেটে ২৮৬ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। সফরকারীদের পক্ষে সেঞ্চুরি করেন শন উইলিয়ামস। ১২৯ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।

অন্যদের মধ্যে ব্রেন্ডন টেইলর করেন ৭৫ রান। ওয়ানডেতে এটি তার ৩৬তম অর্ধশত। এছাড়া সিকান্দার রাজা ৪০ ও পিটার মুর ২৮ রান করেন। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাজমুল ইসলাম অপু ২টি, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ১টি ও আবু হায়দার রনি ১টি করে উইকেট শিকার করেন।

Facebook
Twitter
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email
Print