রবিবার, ১৬ই জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

রবিবার, ১৬ই জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ রবিবার, ১৬ই জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৯ই জিলহজ ১৪৪৫ হিজরি

আলোচিত সেই লালদিঘি হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

প্রভাতী ডেস্ক: দীর্ঘ ৩২ বছর আগে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা ও ২৪ জনকে হত্যার ঘটনায় ‘চট্টগ্রাম গণহত্যা’ মামলা হয়েছিল। নগরীর লালদীঘির ময়দানে আওয়ামী লীগের সমাবেশে উক্ত ঘটনা ঘটেছিল। সেই গণহত্যা মামলার রায়ে তৎকালীন ৫ পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হল-কোতোয়ালী থানার তৎকালীন পেট্টল ইন্সপেক্টর গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল ( মামলার বিচার শুরুর পর থেকেই পলাতক ), সাবেক পুলিশ কনস্টেবল মোস্তাফিজুর রহমান, প্রদীপ বড়ুয়া, মো. আবদুল্লাহ এবং মমতাজ উদ্দিন।

দন্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মৃত্যুদন্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া দন্ডবিধির ৩২৬ ধারায় প্রত্যেকের আরও দশ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সোমবার (২০ জানুয়ারী) বিভাগীয় বিশেষ জজের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ ইসমাইল হোসেন এ রায় দেন বলে জানান চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এড. মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী।

তিনি মিডিয়াকে বলেন, গত রবিবার রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন। সোমবার আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন করার কথা ছিল। কিন্তু আসামিপক্ষ যুক্তি উপস্থাপনে অসম্মতি জানালে আদালত তাৎক্ষণিক ভাবে রায়ের সময় নির্ধারণ করেন। তাছাড়া আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর ১৯৯৭ সালের ২২ অক্টোবর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলার মোট সাক্ষী ১৬৭ জন।

গত ১৪ জানুয়ারি ৫৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্য কার্যক্রম শেষ হয়। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী আওয়ামী লীগ নেতা তৎকালীন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ড. অনুপম সেন, সাংবাদিক অঞ্জন কুমার সেন ও হেলাল উদ্দিন চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী মামলায় সাক্ষ্য দেন।

মামলার অন্যতম সাক্ষী এডভোকেট সম্ভুচন্দ্র নন্দী বলেন, এই রায় ঘোষণার পর পর্যবেক্ষণে বলেন ২৩ জানুয়ারি ১৯৮৮ সালের এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। খুনিদের লক্ষ্য ছিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিননকে হত্যা করা। এই রায়ের মাধ্যমে আমরা কলঙ্কমুক্ত হলাম।

আসামি পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার সাইয়্যেদ মঈনুল আহসান বলেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবো। কারণ দন্ডাদেশ প্রাপ্তদের চারজন সেদিন কেউই ঘটনাস্থলে ছিলেন না। আদালতে তার প্রমাণও দিয়েছি।

Facebook
Twitter
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email
Print